খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্ম

বিস্তৃত হচ্ছে করোনাভাইরাস,১৩৫টি দেশ এই মুহ‚র্তে করোনা কবলিত

ডেস্ক রিপোর্ট: দিন যত বাড়ছে, নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করছে নোভেল করোনাভাইরাস। বিশ্বের ১৩৫টি দেশ এই মুহ‚র্তে করোনা কবলিত। বেড়ে চলেছে মৃত্যু আর আক্রান্তের সংখ্যাও। গোটা বিশ্বে দেড় লাখ আক্রান্তের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৭শ’ জনেরও বেশি মানুষ। ভাইরাসের আঁতুরঘর বলে পরিচিত চীনের উহানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখন মাথাব্যথা ইটালি-সহ গোটা ইউরোপ নিয়ে। কোভিড-৯-কে ‘বিশ্বব্যাপী মহামারি’ ঘোষণার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, চীন নয়, করোনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ইউরোপই। ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। যুক্তরাষ্ট্র, স্পেনের পর ফিলিপাইনেও জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। তবে ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী। এখনও পর্যন্ত ১০৯ জনের শরীরে মিলেছে এই মারণ ভাইরাসের জীবাণু।

করোনার জেরে বিশ্বজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব। ভয়াবহ অবস্থা ইউরোপের প্রথম সারির দেশগুলিতে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইটালিতে। তারপরেই ফ্রান্স ও স্পেন। সংক্রমণ এড়াতে এবার দেশের ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে ঘরেই থাকার নির্দেশ দিয়েছে ফ্রান্স প্রশাসন। জানা গেছে, গত ৭২ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফ্রান্সে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষ। যার ফলে দেশের একাধিক শহরে দোকানপাট, রেস্তরাঁ, বিনোদন-প্রমোদ বন্দোবস্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কবিতার শহর প্যারিস এখন খাঁ খাঁ করছে।

একই অবস্থা প্রতিবেশী দেশ স্পেনেও। করোনার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছুঁইছুঁই। যার ফলে দেশের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে আংশিক গৃহবন্দি করেছে ওই দেশের সরকার। স্পেনে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশের সমস্ত স্কুল-কলেজ, রেস্তরাঁ, শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স, সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মৃত্যর সংখ্যা ছিল ১৯৩। খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী করোনা আক্রান্ত।

এবার ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা জারি
ফিলিপাইনে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এক মাসের কোয়ারেন্টাইনের পাশাপাশি রাজধানী ম্যানিলায় রোববার থেকে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। আগে থেকেই সেখানে স্কুল, সরকারি অফিসসহ সব কিছু বন্ধ রয়েছে। রোববার থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। শনিবারে সেখানে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন। ফলে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮।

ভারতে করোনা-আক্রান্ত বেড়ে ১০৭
ভারতে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১০৯-এ। তার মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা-আক্রান্ত রয়েছেন মহারাষ্ট্রে। সেই রাজ্যে সংখ্যাটা ৩১। গত ১৪টি নতুন আক্রান্তের ঘটনার সব ক’টিই মহারাষ্ট্রের। কেরল রয়েছে এরপরেই। সেরাজ্যে সংখ্যাটা ২২। উত্তরপ্রদেশে ১১। হরিয়ানায় আক্রান্ত ১৪ জনের সবাই বিদেশি। দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন সাত জন। তাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বহু অফিসেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছেন কর্মীরা। বন্ধ করা হয়েছে সিনেমা হল।

করোনায় আক্রান্ত ৪৩৮, মালয়েশিয়ায় মসজিদে নামাজ বন্ধ। মালয়েশিয়ার শাহ আলমের সেকশন ২৭ এর একটি মসজিদ অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ১৫ মার্চ শাহ আলম মসজিদ আল মুনাওয়ারার অফিসার মুহাইয়াত হুসিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নামাজের জামাত থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় মসজিদটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত ১৯০ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৮ জন। তবে এর মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই। নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে সেলাংগরের সুঙ্গাইবুলু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাত জনকে সুস্থ ঘোষণা করেছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪২ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে।

ইরানে বিশেষজ্ঞ টিম পাঠিয়েছে চীন
করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্ব দমন করতে ইরানে ব্যাপক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানে মহামারী প্রতিরোধে চীন একটি ব্যাচ (চালান) সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি দেশটিতে স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের প্রতি আত্মবিশ্বাস রয়েছে, অবশ্যই তারা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী হবে। দেশটি মহামারী মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরুরি তহবিল চেয়েছে।

আল-আকসা মসজিদ বন্ধ ঘোষণা
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে মুসলমানদের প্রথম কিবলাহ ও তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার জেরুজালেমের ওয়াকফ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে মসজিদের বাইরের অংশ ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ঘরে বসে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে।

একসঙ্গে মসজিদ, মন্দির, গির্জা বন্ধ : ইতিহাসে প্রথম মিউজিয়াম, স্পোর্টস লীগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মসজিদ, গির্জা, সিনাগগ, সঙ্ঘ, মন্দির এবং গুরুদুয়ারা বন্ধ হয়ে গেছে এবং হচ্ছে। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করতেই এ ব্যবস্থা।
বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ওমরাহ পালন। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে অতিরিক্ত জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ঘিরে রাথা হয়েছে কাবা শরিফ। স্পর্শ করতে দেয়া হচ্ছে না হাজরে আসওয়াদ।

ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার সেইন্ট মিটার্স ব্যাসেলিকায় ইস্টারের সমাবেশ আয়োজিত হবে না। কার্ডিনালদেরও নিজ নিজ দেশে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেইন্ট পিটার্স ব্যাসেলিকার ইস্টার মাস পরিচালনা করবেন না পোপ ফ্রান্সিস। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পবিত্র ক্রসের গির্জাও। ইস্টারের সবচেয়ে আলোচিত গির্জা এটিই। তীর্থ যাত্রীদের যেতে দেয়া হচ্ছে না ইসরাইলে। আপাদত বন্ধ রাখা হয়েছে অমৃতসরের বিখ্যাত স্বর্ণমন্দির।

‘পাগলের মত কেনাকাটা বন্ধ করুন, বিবেচক হোন’
এদিকে ব্রিটেনের সুপারমার্কেটগুলোতে হঠাৎ করে গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। বিশাল বিশাল সুপারশপের তাকেও টয়লেট পেপার, হাত ধোয়ার তরল সাবান, পাস্তা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিনজাত খাদ্য, আটা, ময়দার মত জিনিস প্রায় উধাও। করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ যত বাড়ছে, ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষজন বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘরে মজুদ শুরু করেছেন।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সুপারমার্কেটগুলো এখন যৌথ এক বিবৃতিতে মানুষজনকে পাগলের মত কেনাকাটা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, এবং আশ্বস্ত করছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব নেই। সূত্র : গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, ডেইলি সাবাহ, ইয়েনি শাফাক, গাল্ফ নিউজ, বিবিসি, সিনহুয়া।

 

0Shares

Comment here