খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্ম

চুরির অপবাদ দিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে কিশোরকে নির্যাতন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃঅপবাদ দিয়ে মাহতাব (১৪) নামের এক কিশোরকে রড দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই ভাই আব্দুল খালেক ও আবু সালেহের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পর প্রভাবশালী ওই সহোদর ব্যবসায়ী বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। রবিবার (২ফেব্রুয়ারি) বিকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর গ্রামের হাতেমপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

অনাথ কিশোরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করায় এলাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, ১৩ বছর আগে শিশু মাহতাবের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। পরে মামা বাড়িতেই সে বড় হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকালে উপজেলার হাতেমপুর বাজারের খালেকের দোকানের ভেতর থেকে মাহতাবকে চোর সন্দেহে আটক করে রশি দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর খালেক ও তার ছোটো ভাই সালেহ এবং রাজা মলিক নামে অপর এক দোকানদার মাহতাবকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই তিনজন শিশুটিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

পরে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে খবর দিলে গ্রামপুলিশ পাথরঘাটা থানায় বিষয়টি জানায়। পাথরঘাটা থানার এসআই মোশাররফ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

চিকিৎসাধীন মাহতাব জানায়, সে চুরি করেনি। প্রায়ই বাজারে ঘুরাফেরা করে মাহতাব। তাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বলে মাহতাব দাবি করে। মাহতাব আরো জানায়, তার হাতে পায়ে দোকানি সালেহ কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেছে।

শিশুটির মামা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘মাহতাবের বাবার নাম মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া। পারিবারিক কলহের কারণে ৩ মাসের মাহতাবকে রেখে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে মাহতাবের মা-বাবা উভয়েই ২য় বিয়ে করে সংসার করছেন। ফলে সে পিতৃমাতৃহীন অনাথ জীবন যাপন করছে। ক্ষেত খামারে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে মাহতাব। ছোট থেকে আমাদের কাছেই বড় হয়েছে। মাহতাবকে অন্যায়ভাবে চুরি সাব্যস্ত করে মারধর করেছে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘শিশু নির্যাতন এটি আইন দণ্ডনীয় অপরাধ। ওই শিশু যদি চুরি করেও থাকে তাহলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত ছিল। নিজেদের হাতে তুলে আইন যারা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ‘মাহতাব মুলত ছিন্নমূল শিশু। মা বাবার আদর, স্নেহহীন ছাড়া জীবন যাপন করে সে। তাকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিযুক্ত সালেহ ও খালেকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি।

0Shares

Comment here