অর্থনীতিজাতীয়রাজনীতি

প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচন।।

দিগন্তর রিপোর্টঃ মেয়র প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে। ঢাকা সিটিকে নতুন করে গড়ে তোলার নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। স¤প্রীতির রাজনীতি, পরিবর্তনের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি ছাড়াও ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং সর্বোপরি উন্নত ঢাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটাররাও প্রার্থীদের ‘স্বতঃস্ফ‚র্ত সাড়া’ দিচ্ছেন। স্থানীয় ভোট হলেও ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। কথাযুদ্ধে নেমেছেন বড় দুই দলের সিনিয়র নেতারাও।

পৌষের শেষ সাপ্তাহে হাড় কাঁপানো শীতে সূর্যের দেখা নেই। প্রচন্ড ঠান্ডায় হীম হওয়া আবহাওয়ায় জমে উঠেছে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। ভোর হতেই মাঠে নামছেন মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর নানা প্রতিশ্রুতির বয়ান দিয়ে ভোট চাইছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ইসলামী ধারা ও বাম ধারার দলগুলোর প্রার্থীরাও সীমিত পরিসরে প্রচারণায় নেমেছেন।

জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রচারণার অন্যরকম দৃশ্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা প্রচারণায় নামলেও ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রচারণায় নামতে দেয়া হয়নি। ধানের শীষ প্রার্থীরা যেখানেই প্রচারণায় নেমেছেন কোথাও পুলিশী বাধা কোথাও ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার মুখে পড়েছেন। ওই নির্বাচনের এক বছর পর ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ধানের শীষ ও নৌকার মেয়র প্রার্থীরা নির্বিঘেœ প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও গতকাল ঢাকা উত্তরে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলে নুর তাপস প্রচারণায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন স্থানীয় ভোট হলেও জাতীয় রাজনীতিতেও ঝাকুনি দিয়েছে। সিটি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চ্যালেঞ্জ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। প্রথমে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের উক্তি ‘এ কেমন লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রচারণায় চালাচ্ছে আমি প্রচারণায় নামতে পারছি না’। জবাবে ওবায়দুল কাদেরের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহবান, ‘মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আসুন, আমিও প্রচারণায় রয়েছি, দেখবো ভোটাররা কার দিকে যায়’। অতপর বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ‘মন্ত্রী-এমপি লাগবে না ফখরুল সাহেব আমাদের মেয়র প্রার্থীরাই যথেষ্ট’। বড় দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার এই কথা যুদ্ধ রাজনীতিতে কিছুটা হলেও উত্তাপ ছাড়িয়েছে।

ঢাকা দুই সিটির আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার মেয়র প্রার্র্থীই সম্ভ্রান্ত ঘরের সন্তান। অভিজাত পরিবেশে তাদের চলাফেলা করা চার প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত এবং ক্লিন ইমেজের অধিকারী। প্রতিদ্ব›িদ্ব মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে একের অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি এবং এক প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থীর বাসায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। দেশের রাজনীতিতে এমন দৃশ্য বহুদিন অনুপস্থিত। তবে গতকাল ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারণা থেকে ৫ জন ও ঢাকা দক্ষিণের ইসরাক হোসেনের প্রচারণার সময় ৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

 

প্রচারণায় হামলা চালানোর অভিযোগ তাপসের:
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মোনাজাতের কারণে নির্ধারিত সময় থেকে একটু দেরি করে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

গতকাল তাপস শান্তিনগর, মালিবাগ, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, কাকরাইল ও মতিঝিল এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রচারণার সময় শান্তিনগর বাজারের সামনে এক পথসভায় শেখ ফজলে নূর তাপস নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে প্রচার চালাবেন। প্রচারের জন্য রাস্তায় যেন যানজট তৈরি না হয়। তিনি বলেন, সুন্দর সম্প্রীতির রাজনীতি ঢাকাবাসীকে উপহার দিতে চাই। আমি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চাই। সবাইকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাপস বলেন, নির্বাচিত হলে শহরে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধমূলক সামাজিক ব্যাধিগুলো দূর করা হবে। এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধান করা হবে। রাস্তা-ঘাট পুনর্বিন্যাস করে জনগণের ভোগান্তি কমানো হবে।

এতিকে তাপস অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার আরকে মিশন রোডে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসায় দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভোট প্রার্থনা করেছি। কিন্তু, সেখান থেকে বের হওয়ার পর আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ গণসংযোগে যারা ছিল, তাদের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ হয়েছে। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাপস জানান, আমি প্রাথমিকভাবে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাবো। এরপর যদি দ্বিতীয় কোনও ঘটনা ঘটে, তাহলে লিখিতভাবে জানানো হবে। আমরা চাই সম্প্রীতির রাজনীতি।

 

 

 

 

0Shares

Comment here