অর্থনীতিজাতীয়

প্রকাশ্যে ফাঁসি চায় শিক্ষার্থীরা।

দিগন্তর রিপোর্টঃ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন সংস্কার করে ধর্ষকের শান্তি মৃত্যুদণ্ড করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘আমাদের সন্তানতুল্য ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন’ শীর্ষক এক কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এ দাবি জানান।

আগামীতে কেউ যেন এ ধরণের ঘটনার সাহস না পায় এজন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে ধর্ষকের প্রকাশ্যে ফাঁসি দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মেজবাহ কামাল। সন্ধ্যায় ঢাবি মেয়েদের ৫টি হলের শিক্ষার্থীরা নারী সমাবেশের আয়োজন করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি জানিয়েছে। এদিকে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে হকার, মাতাল ও ভবঘুরে তাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু ও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বুধবার বেলা ১১টায় মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এতে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম মকসুদ কামাল বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঘটনা প্রমাণ করে, দেশের প্রশাসন কতটুকুু দায়িত্বজ্ঞানহীন। দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী যে জায়গায় নিরাপদ নয়, সে জায়গায় মফস্বল এলাকার মেয়েরা কোন অবস্থায় আছে, তা প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন,এসময় নারী ও শিশু নির্যাতনের যে আইন বাংলাদেশে প্রচলিত আছে, তারও সংস্কার করার দাবি জানান তিনি। সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষক যদি স্বীকার করে যে ধর্ষন করেছে তখন সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড সেটা কমে ৫ বছরে চলে আসবে। তাই, শিশু ও নারী নির্যাতন আইনের সংস্কারের প্রয়োজন আছে।

মানববন্ধনে শিক্ষকদের সাথে সংহতি জানিয়ে ঢাবি ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাবি দেখিয়ে দিয়েছে তারা কীভাবে পড়ালেখা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কাজ, যে কোন অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে হয়। যে অপরাধী এ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। তিনি বলেন, সমাজে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা এবং অমানবিকতার বিষয়ে আমরা সকলে যদি সোচ্চার হই, তাহলে একটি ভালো সমাজ বিনিমার্ণে সক্ষম হবো। আমাদের দাবি হবে, সরকারের আইনি কাঠামোতে যদি কোন ফাঁক-ফোকর থেকে থাকে, তাহলে তা যেন দূর করা হয়। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। এই ঘটনা যেন শেষ ঘটনা হয়। আর কোন মেয়ে যেন ধর্ষণের শিকার না হয়।

প্রফেসর সাদেকা হালিম বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। কিন্তু এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনও দেখিনি। এ ঘটনায় আমরা গভীর শোকাহত এবং ওই ছাত্রীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। কুর্মিটোলার মতো ভিআইপি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটায় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সমলোচনা করে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর জিনাত হুদা বলেন, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের প্রতি যে মনোভাব, তার পরিবর্তন করা দরকার। কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মাহবুবা নাসরীন বলেন, এ অবস্থায় ভিকটিমের সাহসিকতা, দৃঢ়তা আমাদেরকে নতুনভাবে পথ চলতে সহায়তা করে। তিনি আমাদের কাছে প্রেরণা। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামুল হক ভূইয়ার সঞ্চালনায় এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের চেয়ারপারসন ড. সানজিদা আক্তার, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর হুমায়ুন কবির, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর এ এম আমজাদ, সহকারী প্রক্টর আব্দুর রহিম প্রমুখ।

 

 

0Shares

Comment here