অর্থনীতিজাতীয়প্রযুক্তি

হোমনায় শুকিয়ে যাচ্ছে তিতাস নদী || কৃষিক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব।

 

মো.আবু রায়হান চৌধুরী হোমনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের পাশ দিয়ে তিতাস নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা নদী এখন মৃত্যুপ্রায়। নেই খননের উদ্যোগ। এর ফলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে নদীটির তীরবর্তী মানুষদের ওপর।

 

প্রতিবছর নদীর পানি শুকিয়ে যে হারে চর জেগেছে তাতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে এ অঞ্চল কয়েক ধাপ পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত খননের অভাবে নদীর তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে অসংখ্য ধু-ধু বালুচর।

শুকনো মৌসুমে নদীর কোথাও কোথাও একেবারে পানি থাকে না। বিশেষ করে বালুচরের সৃষ্টি হওয়ায় ঝগড়ারচর,ঘাগুটিয়া ও পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাইকারচর, কমলপুর অঞ্চলের প্রায় ২০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায় এবং পানির অভাবে মৌসুমের আবাদকৃত ফসলের উৎপাদন ৫০ শতাংশ হ্রাস পায়।

অপরদিকে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর ‘দু’ কূল উপচে পড়ায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এভাবে সংস্কার বিহীন ঝগড়ারচর গ্রামের নদীর বিপর্যয়ের কারণে কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদনের আশা শেষ পর্যন্ত আশাই থেকে যাচ্ছে। এ নদীর তলদেশে জমেছে পলি। শুষ্ক মৌসুমে নদীটির বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। এতে নৌচলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে নদীটির বুকে কয়েক কিলোমিটার বালুচর জেগে উঠেছে। কোথাও কোথাও একেবারে পানিশূণ্য হয়ে পড়েছে নদী।

খরস্রোতা নদীটি এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে।

বিশেষ করে এই বছর চাষীরা গম, ভুট্টা,ধানসহ রবি ফসলের আবাদ করেছে। মৌসুমের শুরুতে নদীর পানি কমে গেলে শত শত সেচযন্ত্র অচল হয়ে পড়ে। এতে ব্যহত হয় চাষাবাদ। বর্তমানে নদী পাড়ের কয়েক লক্ষ মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খরা। এ এলাকার প্রায় ১৫ হাজার জেলে পরিবার নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের সে পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই এখন হঠাৎ করে পেশা পরিবর্তন করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সামগ্রিকভাবে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই অঞ্চলের এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীর সংস্কার প্রয়োজন। বছর বছর পর্যায়ক্রমে এলাকা ভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচী হাতে নিলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ বর্তমানে সৃষ্ট নৌচলাচল সংকট থাকবে না।

প্রতি বছর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে ব্যাপক এলাকা। ভূক্তভোগী মহলের মতে এই অঞ্চলের বিশেষ করে হোমনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থে নদীটি খনন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

0Shares

Comment here