জাতীয়রুপসী বাংলালাইফস্টাইল

কুমিল্লা কোতয়ালী থানার পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা।

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে তার স্ত্রী সামসুন নাহার (সুইটি) বাদী হয়ে কুমিল্লার নারী ও শিশু আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
এ সময় সুইটির সঙ্গে তাঁর বাবা ও দুই সন্তান উপস্থিত ছিল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার তথ্যে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদাশা গ্রামের মো: সামছুল আলমের ছেলে মোঃ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ঢাকা শ্যামপুর কদমতলী থানার পূর্ব দোলাইরপাড় এলাকার মোঃ বজলুর রহমানের মেয়ে শামসুন নাহার সুইটির। বর্তমানে তাদের সংসারে ৯ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে শামছুন নাহার সুইটি বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরি পাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
মামলার বাদী শামসুন নাহার সুইটি বলেন, বিয়ের সময় সালাহ উদ্দিন সি.এম.পিতে (পি.এস.আই) পদে কর্মরত ছিলেন । সে সময় তার বাবার কাছে থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে সে ৫ লাখ টাকা হাওলাত দেয়ার কথা বলে নেয় সেই টাকা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। এছাড়া তার নিজের ৩০ ভরি স্বর্ণলংকার কৌশলে করে নিয়ে গেছে সে। ২০১৪ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি তাহমিনা আক্তার পান্না নামে বি-বাড়িয়া জেলার এক মেয়েকে তার অজান্তে বিয়ে করে। সেখানেও তার একটি সন্তান রয়েছে। আদালতে সেই বিয়ের নিকাহনামা দাখিল করেছে। গত ৮-৯ মাস ধরে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার চান্দপুর এলাকার আজমিরি খন্দকার ওরফে পপি আক্তার মেরি নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। এখন শুনছি তাকেও নাকি বিয়ে করেছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে একাধিক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সে তাকে মারধর করে ১১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছে। সে বলছে ১১ লাখ টাকা দিলে দ্বিতীয় স্ত্রী পান্নাকে বিদায় করে দিবে। আর টাকা না দিলে তাদের বাসা থেকে বের করে দিবে। সে এখন বাচ্চাদের এবং সংসারের কোন খরচও দেয় না। এসময় তিনি আদালতে সালাউদ্দিনের বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
শামসুন নাহার সুইটি আরো বলেন, সালাহ উদ্দিনের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো তাকে যেন চাকরিচ্যুত করা হয়। কারণ সে নিজেইতো একজন অন্যায়কারি, সে কিভাবে মানুষের ন্যায় বিচার পেতে কাজ করবে।
এবিষয়ে সুইটির বাবা মো: বজলুর রহমান বলেন, গত চার মাস ধরে সালাহউদ্দিন আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে বলছে আর না হয় সে তার মেয়েকে মেরে ফেলবে। বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে বলেন তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুটি ক্ষমতাই আছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে যেকোনো বিপদে ফেলে দিবে।
মামলাটির বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ আদালত শুনানি শেষে মামলাটি জুডিশিয়াল তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। আশা করছি এই তদন্তে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পাবে।
এধরনের অভিযোগ প্রসঙ্গে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: সালাহউদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশের নোটিশ কিংবা মামলার কোনটিই এখন পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি। আদালতের আদেশের নোটিশ পেলে এই বিষয়ে কথা বলবো। তবে এই বিষয়ে এই মূহুর্তে কোন কিছুই বলতে চাই না বলে তিনি জানান।
0Shares

Comment here