স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠতে দেরি হওয়ার জেরে মাগুরা সদর হাসপাতালের সামনে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা বাসটি আটকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বাসের সুপারভাইজার, চালক, হেলপারসহ এক নারী যাত্রীকে পিটিয়ে জখম করে।অভিযুক্ত ওই যাত্রীর নাম খালিদ হাসান।ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত যাত্রী খালিদ হাসানের রাজধানীর সায়েদাবাদ কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। পরে বাসটি সায়েদাবাদ ছেড়ে ধোলাইপাড় পৌঁছালে তার জন্য আবারও অপেক্ষা করা হয়। সেখানে আরও ২০ মিনিট দেরিতে বাসে উঠেই তিনি অন্যান্য যাত্রী ও বাসকর্মীদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ দিদারুল আলম, চালক শিমুল ও হেলপার সৈকতের গায়ে হাত তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে উপস্থিত একজন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট খালিদ হাসানের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রমাণ পেয়ে তাকে শান্ত করেন তাকেও অসম্মান করে এবং বাস থেকে নেমে যায়।বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে দ্রুত অন্য একটি গাড়িতে করে মাগুরার উদ্দেশে রওনা হন। সোহাগ পরিবহনের বাসটি মাগুরা সদর হাসপাতালের সামনে পৌঁছানোর আগেই খালিদ হাসান তার লোকজন ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সেখানে অতর্কিত হামলার উদ্দেশ্যে অবস্থান নেন। বাসটি ওই এলাকায় পৌঁছামাত্রই তারা যাত্রীবাহী বাসটির গতিরোধ করে।এ সময় হামলাকারীরা বাসের দরজা-জানালা ও কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক বাসের দরজা খুলে প্রথমে হেলপার সৈকতকে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে চালক শিমুলের ওপরও চড়াও হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সুপারভাইজার দিদারুল আলম এগিয়ে এলে ৭-৮ জন মিলে তাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রীও হামলাকারীদের আঘাতে আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে।হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত খালিদ হাসান যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে, চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুপারভাইজার দিদারুল আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তার পুরো শরীরে ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। অভিযুক্ত খালিদ হাসান সম্পর্কে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। যাত্রীবাহী বাসে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ যাত্রীরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।