শাকিব খান, নেত্রকোনা থেকে।। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ৪ নম্বর আসমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ বাজার-সংলগ্ন পশ্চিম ও পূর্ব দিকের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ইটের বোল্ডার সোলিং করা হলেও সেখানে বালু ব্যবহার করা হয়নি। ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার না করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। উন্নয়নের নামে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও কাজের মান নিশ্চিত না হলে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে তা আরও বাড়তে পারে। তবে এ ঘটনায় বরাদ্দ, ব্যয় ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।বালু ছাড়াই সোলিং, চলাচলে ভোগান্তি আসমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ এলাকার সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু ইটের সোলিংয়ের কাজে বালু ব্যবহার না করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাস্তাটির নির্মাণপদ্ধতি ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সড়ক নির্মাণে ইটের ফাঁকে বালু ভরাট বা জয়েন্ট ফিলিং যথাযথভাবে না করা হলে ইটগুলো আলগা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে সাইকেল, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময় চাকা পিছলে যাওয়া কিংবা যানবাহনের ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সড়কের ইট অসমান হয়ে গেলে ছোট যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে। সড়কের নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যথাযথ ভিত্তি নিশ্চিত করা না হলে বৃষ্টির পানি ইটের নিচে প্রবেশ করে মাটি নরম করে দিতে পারে।এতে ইট বসে যাওয়া, স্থানচ্যুত হওয়া কিংবা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তার ব্যবহারযোগ্যতা কমে যেতে পারে এবং পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।এ ছাড়া ইটের সোলিং অসমান হয়ে গেলে বা ইটের ধারালো অংশ বেরিয়ে থাকলে পথচারীদের চলাচলও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এমন রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই হাজীগঞ্জ বাজার-সংলগ্ন সড়কটির নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন, ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং কাজের নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয়ের বিবরণ এবং নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সড়কটি টেকসই করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।উন্নয়নকাজের উদ্দেশ্য শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা। তাই আসমা ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ এলাকার সড়কটির নির্মাণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।