স্বামী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক। চার সন্তানের একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের নামকরা অধ্যাপক, একজন কানাডা প্রবাসী আর একমাত্র মেয়েটি স্কুলের শিক্ষিকা। সমাজের চোখে এর চেয়ে সফল এবং ‘এলিট’ পরিবার আর কী হতে পারে! কিন্তু এই জৌলুশের আড়ালে যে অন্ধকার লুকিয়ে ছিল, তা আজ পুরো দেশের মানুষের বুক ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।মিরপুরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া ৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মৃত্যু ঘিরে এবার সামনে এসেছে এমন এক হাড়হিম করা তথ্য, যা শুনলে যেকোনো পাথরের মনও কেঁদে উঠবে। মর্গসূত্রের দাবি— মৃত্যুর পর লাশ পচে যাওয়া তো দূরের কথা, জীবদ্দশাতেই চরম অবহেলা, নির্মম একাকীত্ব আর নোংরা পরিবেশের কারণে বৃদ্ধা নূরজাহানের শরীরে পোকা ধরে গিয়েছিল!একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো! যে মা নিজের জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের পড়ালেন, কোলেপিঠে করে সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আর সম্মানিত আসনে বসালেন— শেষ বয়সে এসে তার জীবন্ত শরীর কামড়ে কামড়ে খাচ্ছিল পোকা! অথচ পাশের রুমেই ছিলেন মেয়ে, আর সন্তানদের গাড়ি-বাড়ির কমতি ছিল না। মা যখন পিপাসায় ছটফট করতে করতে এক ফোঁটা পানির জন্য ধুঁকে ধুঁকে মারা গেলেন, এই সফল সন্তানেরা তখনও জানতেই পারলেন না যে তাদের জন্মদাত্রী পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।লাশ হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকার এক সপ্তাহ পর যখন শরীর গলে মাংস খসে পড়ছিল, তখন টনক নড়ল সবার। নেটিজেনরা চোখের জল ফেলে বলছেন— পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় নিয়তি, এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর একটা মায়ের জন্য কী হতে পারে?এই চরম বাস্তব আজ আমাদের সমাজের গালে এক বিরাট চড়। আমরা সন্তানদের সফল বানাচ্ছি, বড় বড় ডিগ্রি দিচ্ছি, কিন্তু ‘মানুষ’ বানাতে পারছি না।
শাহবাজ জামান (সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)