মোঃ আমিনুল ইসলাম আল আমিন।। মৌলভীবাজারে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক গৃহপরিচারিকাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণের পর রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডস্থ ডানিয়া বেগমের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছায়।সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা একটি অটোরিকশা নিয়ে এসে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে।পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে ৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামে, আসামি দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আসামিরা সারারাত কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়। পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা তাকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকাল ৯টার দিকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষ অবস্থায়কিশোরীকে স্টেশন থেকে উদ্ধার করে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নামে।পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো: দুলাল মিয়া (৩১), পিতা—সাদেক মিয়া, সাং—ইছবপুর (৩নং শ্রীমঙ্গল ইউপি), থানা—শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার। মোঃ জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬), পিতা—মোঃ তাউল মিয়া, স্থায়ী ঠিকানা: চানপুর, থানা ও জেলা—হবিগঞ্জ; বর্তমান ঠিকানা: মিশন রোড (জাকির মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা—শ্রীমঙ্গল।আল আমিন ইসলাম (২০), পিতা—মোঃ মমিনুল ইসলাম, স্থায়ী ঠিকানা: রিচি, থানা ও জেলা—হবিগঞ্জ; বর্তমান ঠিকানা: সোনার বাংলা রোড, থানা—শ্রীমঙ্গল। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমাদের পুলিশের একটি চৌকস টিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে এবং এ ঘটনায় জড়িত বা সহায়তাকারী অন্য কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।