এস এম মমিনুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ডা. ফারাহ ফেরদৌস (৩২) নামে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) ভবনের ১৪ তলার ওই ফ্ল্যাট থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফারাহ ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম এর বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও ফেরদৌসি রশিদ দম্পতির মেয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং ঢাকার শাহবাগের ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন।শিক্ষা ও পেশাগত জীবন : ডা. ফারাহ ফেরদৌস ২০১৭ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি বিভাগে রেসিডেন্ট হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ শুরু করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হৃদরোগ ও বক্ষব্যাধি সার্জারিতে দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিলেন।পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া : ডা. ফারাহ ফেরদৌসের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী এবং সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রামে এ ঘটনায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ চিকিৎসকের অকাল মৃত্যু এলাকাবাসীকেও ব্যথিত করেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনাকে ঘিরে কোনো ধরনের গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডা. ফারাহ ফেরদৌসের অকাল মৃত্যু দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এখন তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অপেক্ষা—তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।