রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করে ঘুমাতে যাবেননা কারন গভীর রাতে যে ফোন গুলো আসে হয় সেটা আপনাকে বাঁচানোর জন্য অথবা অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এটি জরুরি সহায়তার একমাত্র ভরসা। দিনের ব্যস্ততা শেষে অনেকেই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য ফোন বন্ধ করে দেন অথবা সাইলেন্ট মোডে রাখেন। এতে ঘুমের ব্যাঘাত কমলেও, কখনও কখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনকল অজান্তেই মিস হয়ে যেতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর রাতে আসা অধিকাংশ কল সাধারণত প্রয়োজন ছাড়া করা হয় না। পরিবারের কোনো সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ফোনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। এমন সময় ফোন বন্ধ বা সম্পূর্ণ সাইলেন্ট থাকলে গুরুত্বপূর্ণ খবর সময়মতো জানা সম্ভব নাও হতে পারে।তবে এর অর্থ এই নয় যে, গভীর রাতে আসা প্রতিটি কলই জরুরি। অনেক সময় ভুল নম্বর, স্প্যাম বা অপ্রয়োজনীয় কলও আসতে পারে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যাতে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য, জরুরি যোগাযোগ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কল বেজে ওঠে। বেশিরভাগ স্মার্টফোনে "Do Not Disturb" মোডে গুরুত্বপূর্ণ নম্বরগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখার সুবিধা রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যাদের পরিবারের সদস্য বয়স্ক, অসুস্থ, বাইরে কর্মরত বা দূরে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে রাতে ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখাই ভালো। বরং জরুরি যোগাযোগের সুযোগ খোলা রেখে অপ্রয়োজনীয় কল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে।একটি ফোনকল কখন, কার জীবনে কত বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে—তা আগে থেকে বলা যায় না। তাই নিজের নিরাপত্তা ও প্রিয়জনের প্রয়োজনে রাতে ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত, যাতে একদিকে যেমন নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রাম নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে জরুরি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগও হাতছাড়া না হয়। তাই রাতে ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ বা নির্বিচারে সাইলেন্ট করে রাখার পরিবর্তে এমন সেটিং ব্যবহার করুন, যাতে শুধুমাত্র জরুরি কলগুলো আপনার কাছে পৌঁছাতে পারে। একটি সময়োপযোগী ফোনকল কখনও আপনার, আবার কখনও অন্য কারও জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠতে পারে।
শাহবাজ খান
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী