নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের সার্কিট হাউজপাড়ার কামরুজ্জামান শুকুর ওরফে বাবুকে হত্যার অভিযোগে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার ওই এলাকার বাসিন্দা নিহতের পিতা মতিয়ার রহমান মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না সেই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসিকে আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাজউদ্দিন আহম্মেদ।
অপর আসামিরা হলো, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী ও সাধারণ সম্পাদক সাল সাবিল আহম্মেদ জিসান, যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন, খড়কী শাহ আব্দুল করীম রোডের তৌহিদ, খড়কী হাজামপাড়ার বর্ষণ, মিশনপাড়ার রাজিব, শার্শা উপজেলার সাড়াতলা গ্রামের রাশেদ ও মাগুরার শালিখা উপজেলার নাগোসা গ্রামের নুর ইসলাম নাহিদ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কামরুজ্জামান শুকুর ওরফে বাবু ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আসামিরা সরকারি এমএম কলেজের আসাদ হলে প্রায়ই মদ, ফেনসিডিল ও ইয়াবার আসর বসাতো। আসামিরা বাবুকে মাদকের সরঞ্জামা এনে দিতে বলতো। শুকুর রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষীপ্ত হয়। এরপর আসামিরা শুকুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে শুকুরকে এমএম কলেজের আসাদ হলের মধ্যে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। এরপরে পেপসির বোতল, জিআই পাইপ ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে। শুকুরের হাঁটুর ওপর ড্রিল দিয়ে ছিদ্র, প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের নখ তুলে ফেলে। শুকুরকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুকুর মারা যান।
এ ঘটনায় তথন থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। আসামিদের ভয়ে ওই সময় আদালতেও মামলা করা যায়নি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে আসায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।