একটি মামলা আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগেই অনেক মানুষ মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর কারাগারে থাকেন। পরে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বা আদালতে অভিযোগ টিকতে না পারলে তারা মুক্তি পান। কিন্তু ততদিনে হারিয়ে যায় চাকরি, ব্যবসা, সম্মান ও স্বাভাবিক জীবন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মামলায় গ্রেপ্তার জরুরি নয়। পলাতক হওয়ার বা প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কা না থাকলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাজিরার নোটিশ বা জামিনের মতো বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে হত্যা, ধর্ষণ বা সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর মামলায় আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হতে পারে।অনেকের দাবি, আদালতে মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করার প্রবণতা কমে।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দ্রুত তদন্ত, নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং তদন্তকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।প্রশ্ন একটাই—যে মানুষটি বছরের পর বছর বিনা অপরাধে কারাগারে ছিলেন, তাঁর হারানো সময়, সম্মান ও জীবনের ক্ষতির দায় নেবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রয়োজন বিচারব্যবস্থায় সময়োপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কার।
শাহবাজ খান
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী