গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সমাজের সত্য তুলে ধরা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং জনমত গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই “ভূয়া সাংবাদিক” শব্দটি ব্যবহার করার আগে এর সঠিক অর্থ বোঝা প্রয়োজন।কেউ সরকার অনুমোদিত ও নিবন্ধিত পত্রিকা, টেলিভিশন বা অনলাইন গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থান থাকে, তাহলে তাকে “ভূয়া সাংবাদিক” বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ তিনি একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অধীনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকলেও যদি তিনি সাংবাদিকতার নৈতিকতা লঙ্ঘন করেন, অসত্য তথ্য প্রকাশ করেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে—কিন্তু কেবল এজন্য তাকে সরাসরি “ভূয়া” বলা সঠিক নয়।ভূয়া সাংবাদিক বলতে সাধারণত তাকে বোঝানো হয়, যিনি কোনো স্বীকৃত বা নিবন্ধিত গণমাধ্যমে যুক্ত নন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, প্রভাব খাটানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। এ ধরনের ব্যক্তি প্রকৃত সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করেন না এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদনও তাদের থাকে না।অন্যদিকে, যদি সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়বদ্ধতা। তাই প্রকৃত সাংবাদিক আর ভূয়া পরিচয়ধারীর মধ্যে পার্থক্য নির্ভর করে তার বৈধ সংযুক্তি, পেশাগত আচরণ এবং নৈতিক মানদণ্ডের ওপর।বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়।যা-কিনা আধুনিক গণমাধ্যম কেন্দ্র" যা মুহূর্তেই বিশ্বময়।পরিশেষে বলা যায়, নিবন্ধিত পত্রিকা বা টিভিতে কর্মরত কাউকে শুধু ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা অপছন্দের কারণে “ভূয়া সাংবাদিক” বলা উচিত নয়। বরং প্রমাণ ও নীতিগত বিচারের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
শাহবাজ জামান
নির্বাহী পরিচালক
(আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কেন্দ্র) (international human rights & media centre)