দিগন্ত ডেস্ক।।ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর, তার আমলে আওয়ামী নেতাদের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত কানাই লাল সরকার খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভারসিটির ট্রেজারার পদে এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।গত ১৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে (স্মারক নং : ৩৭.০০.০০০০.০৭৮.১১.০০১.২০১৫-৩৬০) খিলগাঁও মডেল কলেজ, ঢাকা এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ পান? এটি অনেকেরই প্রশ্ন।প্রফেসর না হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার নামের আগে প্রফেসর পদবী ব্যবহার করেন।
খিলগাঁও মডেল কলেজ, ঢাকাতে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের অধিকারী হন তিনি।তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তথা শাহজাহান খান, সাবের হোসেন চৌধুরীর সাথে তার সখ্যতার জেরে তিনি এ সম্পদের মালিক হন।তিনি ঢাকার ১১৪/১/ডি, আহমাদবাগ, সবুজবাগে আলিশান ফ্লাটের মালিক।এছাড়াও ঢাকা ও তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর-এ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কিভাবে এমন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন এ নিয়ে তার এলাকায় তিনি প্রশ্নবিদ্ধ।
গত ২১ জুন তারিখে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ এনায়েতুল বাবর পদত্যাগ করেন। এরপর ট্রেজারার কানাই লাল সরকার ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন। যেটা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট তারিখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা এর সাথে কানাই লাল সরকার জেলখানায় দেখা করেন। মোঃ শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা কানাই লাল সরকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
গত ২১ মে তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিরাজুল হক চৌধুরী লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে প্রস্তাবিত সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান, সৈয়দ হাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক, খুলনা ৩ আসনের সাবেক সাংসদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম কামাল হোসেনের ভগ্নিপতি ড. মোঃ রেজাউল আলম এবং ভগ্নি নাহিদ নেওয়াজী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বজলুল হক খন্দকার ও তার পত্নি সৈয়দা লুৎফা হক কে নিয়ে অবৈধ বোর্ড সভা ডাকেন। এই বোর্ড সভা ডাকার পরিকল্পনা করেন কানাই লাল সরকার। এবং এই সভায় অবৈধভাবে মোঃ মিজানুর রহমান কে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত করেন।এরপর থেকে অবৈধ বোর্ড সদস্যরা অনৈতিকভাবে বিভিন্ন কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর কানাই লাল সরকার।কতিপয় শিক্ষার্থীদের ম্যানেজ করে মব তৈরি মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কে অবৈধভাবে দখল করে আছেন বর্তমান প্রশাসন।এতে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন খুলনার সুশীল সমাজ।