বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে মাদ্রাসায় অফিস সহকারী নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দাতা সদস্য ইউসূফ আকন। ওই মামলার প্রধান স্বাক্ষীকে অবরুদ্ধ করে মারধর ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লিটন মোল্লা ও তার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। গালাগাল, হুমকি, মারধর ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার একটি অডিও ২২ নভেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিএনপি নেতার শাস্তি দাবি করছেন। জানা যায়, ভূয়া নিয়োগ বোর্ড সাজিয়ে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেখানো হয়। সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ডিজির প্রতিনিধি ড. আবুল কালাম আজাদ এর স্বাক্ষর জাল করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের জমি দাতা ইউসুফ আকন আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় অভিযুক্ত ৪ আসামি ২২ দিন জেল হাজতে থাকেন। মামলার প্রধান স্বাক্ষী মোঃ জিয়াউল হক জুবায়ের উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে তার নিজ ফার্সিতে থাকা অবস্থায় তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লিটন মোল্লা ১০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ফার্মেসীতে প্রবেশ করে জিয়াউল হক জুবায়েরকে হাত পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি সহ বাদী দ্বারা মামলা তুলে নিতে বলেন। নয় তো ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। জিয়াউল হক জুবায়ের গাবতলী গ্রামের মৃত এরশাদুল্লাহ্ হাওলাদারের ছেলে। তিনি বলেন, লিটন মোল্লা সহ ১০-১২ জন লোক আমার ব্যবসায়ীক দোকানে ঢুকে মারধর করে। মামলা তুলে না নিলে আমার হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির ৯ম যুগ্ম আহবায়ক লিটন মোল্লাকে একাধিকবার কল করে কিংবা ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সারা মেলেনি। তালতলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় জেলা কমিটির সাথে যোগাযোগ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ জালাল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এপর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।