স্টাফ রিপোর্টার।।দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় টাঙ্গাইলে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপক মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে টাঙ্গাইল পৌরসভা। শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।সোমবার (৬ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন। উদ্বোধনের পর হাসপাতাল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ড্রেন, আবাসিক এলাকা, জলাবদ্ধ স্থান এবং জনসমাগমপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বাসকোস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ্ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য, টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সরকার, পৌরসভা কর্মচারী ফেডারেশন ঢাকা বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উচ্চমান সহকারী মো. শাহাদাত হোসেন, সেনেটারি ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান, কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান, উচ্চমান সহকারী নূরে আলম ভাষানী এবং কর আদায়কারী রঞ্জিত পালসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।আয়োজকরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কারণ, এসব স্থানই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস।নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গুমুক্ত টাঙ্গাইল গড়তে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশক নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে এ অভিযান আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। শুধুমাত্র কীটনাশক ছিটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। টাঙ্গাইল পৌরসভার এই সমন্বিত উদ্যোগ সময়োপযোগী হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক তদারকির ওপর।