বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। এই বিভাগটি দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।ইতিহাস : খুলনা অঞ্চলের ইতিহাস বহু প্রাচীন। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অংশ হিসেবে সভ্যতার বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। মধ্যযুগে এটি বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, বিশেষ করে মুসলিম শাসনামলে এখানে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ শাসনামলে খুলনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও খুলনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেন।ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি : খুলনা বিভাগ তার বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরবন, যা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল এই বন বাংলাদেশের গর্ব।এছাড়া বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, যা খান জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন, ইসলামী স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। খুলনার লোকসংস্কৃতি, যেমন—পল্লীগীতি, নৌকা বাইচ, ও বিভিন্ন গ্রামীণ উৎসব এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।খুলনা অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চিংড়ি, মাছ ও স্থানীয় বিভিন্ন পিঠা-পায়েস এখানকার জনপ্রিয় খাবার। প্রতিষ্ঠা দিবস (জন্মদিন) : খুলনা বিভাগ ১৯৬০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর এই দিনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় জনগণ তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অঙ্গীকার করে।উপসংহার : খুলনা বিভাগ শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের এক অনন্য ভাণ্ডার। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত সম্পদ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে। তাই খুলনা বিভাগকে জানা এবং এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।এই প্রতিবেদনটি খুলনা বিভাগের গুরুত্ব ও সৌন্দর্যকে তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
শাহবাজ খান
সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক