সোনিয়া তালুকদার,খুলনা।। খুলনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (দৌলতপুর) এর আওতায় অবৈধ সংযোগ এবং বকেয়া বিল নিয়ে চরম অরাজকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এর ফলে সরকার প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অভিযুক্তদের ভূমিকা :স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক মামুন” তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের নাটক সাজিয়ে বড় ধরনের অপরাধীদের আড়াল করা হয় এবং অর্থের বিনিময়ে নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিলের ঘটনা ও রহস্যজনক সমঝোতা : সূত্র জানায়, গত শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডে একটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৪টি অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়, যেগুলোতে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা বিল বকেয়া ছিল। এর মধ্যে পাবলা মোল্লার মোড়ের শেখ ম্যানশনের একটি মিটারে ৫১ মাসের বকেয়া ছিল ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একজন গ্রাহকের বিলে এত বড় অঙ্কের বকেয়া জমে থাকার পরও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।কর্মকর্তাদের বক্তব্য : এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে: মো. ময়নুদ্দীন (নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২, দৌলতপুর): অভিযোগের বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।মো. আরিফুর রহমান (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, খুলনা সার্কেল): তিনি জানান, জব্দকৃত মিটারের রিডিং অনুযায়ী তিন গুণ জরিমানা আদায় করাই নিয়ম। তবে বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে মানবিক কারণে সামান্য ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকে। জনমনে ক্ষোভ ও বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা : সচেতন নাগরিক মহলের মতে, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিদ্যুৎ খাতে এমন লুটপাট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। একটি মিটারে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকা কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া অসম্ভব।দাবি: ১. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন। ২. অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও নেপথ্যের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।৩. রাজস্ব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত বকেয়া আদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।খুলনার বিদ্যুৎ খাতের এই রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া অনিয়ম বন্ধ না হলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়বে এবং সরকারি সম্পদ লোপাট অব্যাহত থাকবে। নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।