দিগন্ত ডেস্ক।।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও, পুরো কার্যক্রমের সময়সূচি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ এবং নিয়োগ পরীক্ষা—সবকিছু অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আগ্রহী প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খুলনা অঞ্চলে স্ব স্ব এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য ২২ জুলাই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যা ২৩ জুলাই প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র সংগ্রহের স্থান হিসেবে শহর সমাজসেবা কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ২৫ জুলাই দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট, আর ২৬ জুলাই ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এ সময়সূচি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৩ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কার্যত আবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার জন্য প্রার্থীরা মাত্র দুই কর্মদিবসেরও কম সময় পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আবেদনপত্র পূরণ এবং জমা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য আবেদনকারী সময়মতো অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আগ্রহী প্রার্থীদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি কর্মসূচির নিয়োগ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত প্রচার, যুক্তিসঙ্গত সময় এবং অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। অনেকেই বলছেন, সীমিত সময়ের কারণে যোগ্য ও আগ্রহী অনেক আবেদনকারী আবেদন করার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হতে পারেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিয়োগ কার্যক্রম যেন আরও উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন যোগ্য প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না।
এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।