নিজস্ব প্রতিবেদক।।খুলনা নগরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক কারবারে জড়িত ৪৭৫ জনের তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। তালিকায় ২৮ চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী এবং প্রায় ৪০০ মাদক কারবারির নাম রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নতুন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে কেএমপি। পরে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এই তালিকা করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা, স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের নাম রয়েছে।জানা গেছে, রাজনৈতিক ক্যাটাগরিতে মহানগর বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিপুল চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেট থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা আদায়ের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ঘরানার এক আলোচিত ভূমিদস্যুর কাছ থেকেও পাঁচ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।খুলনা সিটি করপোরেশনের কয়েকটি বড় কাজেও তাঁর প্রভাব রয়েছে। বেনামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পাঁচটি কাজ বাগিয়ে নেওয়া; মামলা-বাণিজ্য; ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়; বাস, ট্রাকস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, খুলনা সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে মাসিক দুই লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নগরের দখলদারি ও মাদকের কারবার থেকেও নিয়মিত ভাগ পান ওই নেতা।