ডেস্ক রিপোর্ট।।ঈদের দিনেও ভারী বৃষ্টিতে ভাসল সিলেট। সোমবার ভোর থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় সিলেট শহরে। এতে আবারও নগরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো নগর প্লাবিত হলো। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকায়ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।এ দিকে ভোর থেকেই বৃষ্টি চলায় ভোগান্তিতে পড়েন ঈদগাহ ও মসজিদগামী মুসল্লিরা। নগরের বাসিন্দারা বৃষ্টির দুর্ভোগ নিয়েই ঈদের নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া নগরের অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কোরবানি দিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেকে জলাবদ্ধতার কারণে কোরবানি দিতে পারছেন না।এর আগে ২ জুন রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন অধিকাংশ এলাকার পানি পরদিন নেমে যায়। তবে অন্তত ১২টি এলাকার পানি নামতে বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল। পরে ৮, ১০ ও ১৩ জুন আবারও ভারী বৃষ্টিতে সিলেট নগর প্লাবিত হয়।সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া আজ সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেটে ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নগরের উপশহর, তেরোরতন, সোনারপাড়া, লামাপাড়া, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা, কেওয়াপাড়া, তালতলা, জামতলা, সোবহানীঘাট, যতরপুর, মাছিমপুর, পাঠানটুলা, দরগামহল্লা, পায়রাসহ শতাধিক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমেছে। অনেক এলাকার বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও ছিল হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে নগরের শাহি ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের উপস্থিতিও অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল অনেক কম। প্রচুর মুসল্লি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ এড়িয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কারণে বারবার নগর প্লাবিত হচ্ছে। ঈদের দিনও ভারী বৃষ্টিতে নগরের অনেক নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে অনেকে কোরবানিও দিতে পারছেন না। বৃষ্টি না কমায় পানিও নামছে না। তবে নগর যেন জলাবদ্ধ না হয়, সে জন্য আরও কী করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে।