আজ ১লা মে ২০২৬, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিকের দাবিতে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নানা কর্মসূচি, শোভাযাত্রা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।মে দিবসের ইতিহাস আমাদের নিয়ে যায় ১৮৮৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে, যেখানে শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। তাদের সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আজকের শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে ওঠে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই ১লা মে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।বাংলাদেশেও মে দিবস অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো র্যালি, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এদিনে শ্রমিকদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারেও নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। অটোমেশন, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, এবং ন্যায্য মজুরির অভাব—এসব বিষয় এখনো শ্রমিকদের জন্য বড় সমস্যা। তাই মে দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য নতুন করে চিন্তা ও উদ্যোগ গ্রহণেরও সময়।পরিশেষে বলা যায়, মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শ্রমই সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আসুন, এই মে দিবসে আমরা সবাই শ্রমের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
শাহবাজ খান
সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক