বিশেষ প্রতিনিধি।।অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত, দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মানবিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে লায়ন্স সদস্যদের আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫ বি-৩-এর জোন চেয়ারপারসন লায়ন শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।তিনি বলেছেন, “লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের সদস্যরা সারা বিশ্বে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানবসেবাই লায়ন্সের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়েই মানবতার প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। ”শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুরে বলেশ্বর নদীসংলগ্ন এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেনের উদ্যোগে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লায়ন শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে এতিম, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব।তিনি আরও বলেন, মানবসেবা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে লায়ন্স সদস্যদের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ এবং লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি-৩-এর ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন প্রফেসর লায়ন শেখ রফিকুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল আলিমসহ এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এ সময় মাদ্রাসা ও এতিমখানার শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।আয়োজকদের এ উদ্যোগে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক চেতনা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।মানবতার কল্যাণে নিবেদিত থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেবার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের।